Skip to main content

বাইক ও প্রেমিকা বদলিয়ে ফ্লাইওভারে স্টান্টবাজি, তারপর ...



দুটি বাইকে চার বন্ধু। রাহুল ও সুস্মিতা এবং আমান ও পায়েল। তারা ছুটে চলছে মহাসড়ক দিয়ে। এক সময় তাদের মাথায় ভুত চাপে। তারা বাইক ও প্রেমিকা বদল করে নিয়ে ফ্লাইওভার অতিক্রম করবে দ্রুতগতিতে। আর তখনই ঘটে মর্মান্তিক-হৃদয় বিদারক ঘটনাটি!

রাত সাড়ে দশটা নাগাদ রাহুল পায়েলকে আমানের বাইকের পেছনে বসিয়ে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে দিয়ে ঝড়ের গতিতে বাইক ছোটাতে থাকে। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভারের মাঝ বরাবর রাহুলের বাইকের হ্যান্ডেল ফ্লাইওভারের রেলিংএ আটকে যায়। বাইকের ভীষণ গতি থাকায় পেছনে বসে থাকা পায়েল বাইক থেকে ছিটকে পড়ে ফ্লাইওভারের নীচে বাজার এলাকায়।

হঠাৎ করে এই মেয়েটি কোথা থেকে এখানে পড়ল খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্থানীয় মানুষজন। তারাই ফ্লাইওভারের উপর গিয়ে দেখেন, সেখানে রাস্তায় পড়ে ছটফট করছে রাহুল। দু’জনকেই উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় স্থানীয় নার্সিং হোমে। সেখানে দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ঘটনাটি ঘটে রবিবার ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুর থানার অন্তর্গত দক্ষিণ শহরতলি লাগোয়া ইএম বাইপাসের কামালগাজি ফ্লাইওভারে।

মাত্র বছর দু’য়েক আগেই এই উড়ালপুল খুলে দেওয়া হয়েছিল জনসাধারণের জন্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ আরও ভাল করার লক্ষ্যেই এই উড়ালপুল নির্মিত হয়ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই এই সেতুতে সাধারণ মানুষের চলাফেরা দায় হয়ে উঠছে বাইকবাজদের সৌজন্যে। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনা। রবিবার রাতে দু’টি বাইকে করে চার বন্ধু আসে এই কামালগাজি উড়ালপুলে। রাহুল ও সুস্মিতা এবং আমান ও পায়েল একে অপরকে ভালোবাসত।

দু’টি বাইকে করে নেতাজিনগর ও রিজেন্ট পার্ক এলাকা থেকে এই কামালগাজি উড়ালপুলে রাত ন’টা নাগাদ এসেছিল তারা। এখানে এসে রাহুল আমানের মোটর বাইক ও গার্লফ্রেন্ডের দায়িত্ব নিজে নেয়। অন্যদিকে রাহুলের বাইকে রাহুলের গার্লফ্রেন্ড সুস্মিতাকে নিয়ে আমান চলতে থাকে। সুস্মিতার কথা অনুযায়ী, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ রাহুল পায়েলকে আমানের বাইকের পেছনে বসিয়ে উড়ালপুলের উপর দিয়ে ঝড়ের গতিতে বাইক ছোটাতে থাকে।

খবর পেয়ে সোনারপুর থানার পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। রাহুল ও পায়েলের দুই বন্ধু আমন ও সুস্মিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহত দু’জনের বাড়ি দক্ষিণ কোলকাতার রিজেন্ট পার্ক ও নেতাজিনগর থানা এলাকায়। রাহুলের গার্লফ্রেন্ড সুস্মিতা বলে, ‘রবিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা চারজন মিলে দুটো বাইকে করে কামালগাজি উড়ালপুলের কাছে আসি। এখানে অনেকক্ষণ বসেও ছিলাম আমরা। এর পর রাত দশটা নাগাদ রাহুল বলে, আমি আমনের বাইকটা চালাবো। পায়েলও বলে বাইক পাল্টালে গার্লফ্রেন্ড-ও পাল্টাতে হবে। সেই কোথা মেনেই রাহুলের বাইকের পিছনে পায়েল সওয়ারি হয়। আমি ও আমনের বাইকের পিছনে উঠি। ওরা উড়ালপুলের উপর দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে যায়। আমি আর আমন অন্য রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। দীর্ঘক্ষণ ওদের খোঁজ না পেয়ে আমরা উড়ালপুলের উপরে এসে দেখি এই দুর্ঘটনা ঘটেছে”।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই চারজন বাইক আরোহীর কারও মাথাতেই হেলমেট ছিল না। পুলিশের তরফ থেকে বারে বারে এ বিষয়ে মাইকিং করে বাইক আরোহীদের সাবধান করা হলেও এই স্টান্টবাজির প্রবণতা যে এতটুকুও কমেনি, তা আবারও প্রমাণিত হল।

Popular posts from this blog

ফরেইনারদের ব্যাপারে হোম আফেয়ার্স থেকে আদেশ

ফরেইনারদের ব্যাপারে হোম আফেয়ার্স থেকে আদেশ জারী হয়েছে। দোকানে দোকানে তল্লাশী হবে। কাগজ ছাড়া পেলেই ধরে ফেলবে। কারো দোকান, অফিস আদালতে কাগজ ছাড়া লোক পেলে কোনো অজুহাত শোনা হবেনা, দোকানদারকে বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে গ্রেফতার করা হবে।

কোট, প্যান্ট, টাই পরলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন :  কোট, প্যান্ট, টাই পরলে কি গুনাহ হবে? উত্তর :  কোট, প্যান্ট, টাই এগুলো পরলে গুনাহ হবে মর্মে কোনো হাদিস, কোনো  দলিল, কোনো রেওয়ায়েত বা ফতোয়া কোথাও কিছু আসেনি। তবে পোশাকের সুনির্দিষ্ট যে কোড রয়েছে, তার মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে এই, মানুষ যে পোশাকগুলো পরবে, তার মধ্যে যেগুলো সতরের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো একটু ঢিলেঢালা হবে, যাতে করে এমন টাইট ফিটিং না হয় যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখা যায়। এটা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকার মতো। যদি এমনটিই হয়, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন। হাদিসের মধ্যে বলেছেন যে, তারা পোশাক পরিহিত হবে, কিন্তু তারা উলঙ্গ। এ জন্য পোশাকের যে ইসলামিক কোড রয়েছে, সেই কোড লঙ্ঘন করলে আপনার সতরও ঢাকা হবে না, পোশাক পরাও হবে না। এই পোশাক পরলে গুনাহের কাজ হবে। কিন্তু কেউ যদি প্যান্ট পরেন, আর সেই প্যান্ট যদি ঢিলেঢালা হয়, স্বাভাবিকভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখা না যায়, তাহলে এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অনুরূপভাবে টাইও এক ধরনের পোশাক। এটি হারাম কোনো পোশাক নয় যে নিষিদ্ধ হবে। কোনো অঞ্চলে এটা সৌন্দর্যের জন্য বা শীতের জন্য পরা হতে পারে। পোশাকের দুটি দিক রয়েছে। আল্লাহতা...

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে বিক্রি হচ্ছে কুকুরের মাংসের বিরিয়ানি।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে বিক্রি হচ্ছে কুকুরের মাংসের বিরিয়ানি। গত কয়েক দিন ধরেই ফেসবুক ইউজারদের ওয়ালে এমন একটি স্ট্যাটাস ঘুরপাক খাচ্ছে। তাতে কুকুর জবাই করে মাংস বানানোর ছবিও যুক্ত আছে। এ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে। কুকুর বা শুকরের মাংস গরু-খাসি বলে বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। কুকুর জবাই করে মাংস তৈরির কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে। নগরীর মোড়ে মোড়ে বিরিয়ানির দোকান। তুলনায় কম দামে পেট ভরে খেতে উৎসুক অগণিত মানুষ। সাধ্যের মধ্যে গরু-খাসির বিরিয়ানির দাম ৯০ থেকে ১২০ টাকা। এই বিরিয়ানি নগরবাসীর প্রথম পছন্দের খাবর। তাই বিরিয়ানির ব্যবসাও রমরমা। কিন্তু, গরু-খাসির এই বিরিয়ানি এত কম দামে বিক্রি হয় কিভাবে! আসল ঘটনা জানলে আঁতকে উঠবেন। গরু-খাসির বিরিয়ানি বলে যা বিক্রি হচ্ছে, তা রান্না হয় কুকুরের মাংস দিয়ে। এক ফেসবুক ব্যবহারকারী কুকুর জবাই করে মাংস বানানোর ছবি সংযুক্ত করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ২৮ মার্চ দেওয়া তার ওই স্ট্যাটাসটি হাজার হাজার শেয়ার হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘গরু-খাসির মাংসের বিরিয়ানি আজ থেকে হোটেলে খাওয়া বর্জন করুন। মাংস দিয়ে খেলে মু...