Skip to main content

যেসব কারণে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইসলামে নিষিদ্ধ


নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা আল্লাহর দেওয়া সীমারেখা লঙ্ঘনের শামিল। আল্লাহর দেওয়া সীমারেখার অন্যতম একটি দিক হলো নারী ও পুরুষ নিজ নিজ স্বকীয়তা, স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্যের নিরিখে তাদের জীবন পরিচালিত করবে। আল্লাহ বলেন, ‘আপনি মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এটিতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা রয়েছে। তাদের কর্ম সম্পর্কে আল্লাহ অবহিত।  (সূরা নূর : ৩০, ৩১)।
আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আপনার স্ত্রী, কন্যা এবং মুমিনদের বলে দিন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়াময়। ’ (সূরা আহজাব  : ৫৯)।
মহান আল্লাহ নবীর স্ত্রীদের সম্বোধন করে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের বাসস্থানে অবস্থান করবে এবং জাহেলি যুগের সৌন্দর্য প্রদর্শনের মতো তোমরা তোমাদের প্রদর্শন করবে না, তোমরা যথাযথভাবে নামাজ আদায় করবে এবং জাকাত প্রদান করবে। ’ (সূরা আহজাব : ৩৩)।
রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো পুরুষ ভিন্ন মহিলাকে নিয়ে নির্জনে গেলে সেখানে তৃতীয় জন হিসেবে শয়তান উপস্থিত হয়। ’ (মিশকাত)।
আমরা আবার বলছি, নারী-পুরুষের বাধাহীন মেলামেশা মহান আল্লাহর দেওয়া সীমারেখার লঙ্ঘন। এতে ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনের ভারসাম্য এবং স্বাভাবিকতা বিনষ্ট হয়। এতে তরুণ- তরুণী নির্লজ্জ জীবনযাপনের সুযোগ পায়। তারা মাদকাসক্তিতে লিপ্ত হয়। মাদকের অর্থ জোগাতে পিতা-মাতার প্রতি নির্যাতন করে। তারা জেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পায়। এতে পরকীয়ার দুয়ার উন্মুক্ত হয়। এতে সংসার-পরিবারে ভাঙন সৃষ্টি হয়। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশায় ভর করে মানুষের জঘন্য শত্রু শয়তান তার কুটিলতা ও কুমন্ত্রণার মাধ্যমে মানুষের ইহ ও পরকাল ধ্বংস করে দেয়।
নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশায় আশরাফুল মাখলুকাত জেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে মদ-নেশায় ও পরকীয়ায় জড়িয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক ইহলৌকিক ও পারলৌলিক জীবন ধ্বংস করে দেয়। এমনটি অবশ্যই পরিহারযোগ্য, অবশ্যই বর্জনীয়। আল্লাহ আমাদের সুন্দর পরিচ্ছন্ন ও তাঁর দেওয়া সীমারেখা মেনে জীবনযাপনের তাওফিক দিন।
 (আমিন) 

Comments

Popular posts from this blog

কোট, প্যান্ট, টাই পরলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন :  কোট, প্যান্ট, টাই পরলে কি গুনাহ হবে? উত্তর :  কোট, প্যান্ট, টাই এগুলো পরলে গুনাহ হবে মর্মে কোনো হাদিস, কোনো  দলিল, কোনো রেওয়ায়েত বা ফতোয়া কোথাও কিছু আসেনি। তবে পোশাকের সুনির্দিষ্ট যে কোড রয়েছে, তার মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে এই, মানুষ যে পোশাকগুলো পরবে, তার মধ্যে যেগুলো সতরের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো একটু ঢিলেঢালা হবে, যাতে করে এমন টাইট ফিটিং না হয় যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখা যায়। এটা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকার মতো। যদি এমনটিই হয়, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন। হাদিসের মধ্যে বলেছেন যে, তারা পোশাক পরিহিত হবে, কিন্তু তারা উলঙ্গ। এ জন্য পোশাকের যে ইসলামিক কোড রয়েছে, সেই কোড লঙ্ঘন করলে আপনার সতরও ঢাকা হবে না, পোশাক পরাও হবে না। এই পোশাক পরলে গুনাহের কাজ হবে। কিন্তু কেউ যদি প্যান্ট পরেন, আর সেই প্যান্ট যদি ঢিলেঢালা হয়, স্বাভাবিকভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখা না যায়, তাহলে এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অনুরূপভাবে টাইও এক ধরনের পোশাক। এটি হারাম কোনো পোশাক নয় যে নিষিদ্ধ হবে। কোনো অঞ্চলে এটা সৌন্দর্যের জন্য বা শীতের জন্য পরা হতে পারে। পোশাকের দুটি দিক রয়েছে। আল্লাহতা...

ফরেইনারদের ব্যাপারে হোম আফেয়ার্স থেকে আদেশ

ফরেইনারদের ব্যাপারে হোম আফেয়ার্স থেকে আদেশ জারী হয়েছে। দোকানে দোকানে তল্লাশী হবে। কাগজ ছাড়া পেলেই ধরে ফেলবে। কারো দোকান, অফিস আদালতে কাগজ ছাড়া লোক পেলে কোনো অজুহাত শোনা হবেনা, দোকানদারকে বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে গ্রেফতার করা হবে।

দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকায় অ‌ভিবা‌সী বি‌রোধী সমা‌বেশ

নুৃরুল আলম, দক্ষিণ আফ্রিকা: দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকায় অ‌ভিবাসী বি‌রোধী সমা‌বে‌শের ডাক দি‌য়ে‌ছে প্রি‌টো‌রিয়ার ‘মা‌মে‌লো‌ডি স‌চেতন নাগ‌রিক’। অ‌বৈধ অ‌ভিবাসী‌দের দেশ‌ থে‌কে বের ক‌রে দেয়ার দা‌বি‌তে আগা‌মি ২৪ ফেব্রুয়া‌রি শুক্রবার এ সমা‌বে‌শের ডাক দি‌য়ে‌ছে সংগঠন‌টি। স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় সি‌টি হ‌লে সমা‌বেশ‌টি হ‌বে। সমাবেশে স্থানীয় আফ্রিকানদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গত  একমাস ধরে তারা লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। ওই লিফলেটে বলা হয়েছে, এই সমাবেশ হচ্ছে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এবং ওই সকল কোম্পানী ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যারা জিম্বাবুয়েসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের চাকরীর ব্যবস্থা করেছে। যেখানে চাকরী করার কথা ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকানদের। ওই লিফলেটে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন ক্যাশ এন্ড ক্যারি,  নানদোস, কেএফসি, স্পার, শপরাইটসহ বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে জিম্বাবুয়েসহ  (পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া) বিভিন্ন দেশের নাগরিক। স্থানীয়রা মনে করে, বিদেশী নাগরিকরা তাদের চাকরী কেড়ে নিয়েছে। ফলে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে,  নাইজেরিয়া, জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তানসহ আরো বিভিন্...