Skip to main content

চারাগাছ বাঁচাতে সুদানে বাংলাদেশি পাটের বিপুল চাহিদা




রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে ১৫ লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির পর ২০১১ সালে সুদান ভেঙে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় দক্ষিণ সুদান নামের আরেকটি স্বাধীন দেশ। জাতিসংঘ-স্বীকৃত ১৯৩ তম দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে দক্ষিণ সুদান। আর গোটা দেশটিকে সবুজে ভরে দিতে এরই মধ্যে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছে দক্ষিণ সুদান সরকার। কিন্তু ঊষর মরুময়তা আর রোদের প্রচণ্ড তাপে সে অঞ্চলে সবুজ চারাগাছ বাঁচতে পারছে না। সবুজ চারাগাছকে বাঁচাতে তাই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সূর্যতাপরোধী ছাউনি ও আচ্ছাদনের। আর এ ক্ষেত্রে পাটে তৈরি ছাউনি ও আচ্ছাদনই সবচেয়ে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই বিশাল চাহিদার কথা জানিয়ে বেশ ক’বার বাংলাদেশের কাছে পাট ও পাটে তৈরি পাতলা চট আমদানি করার আগ্রহ জানিয়েছে দক্ষিণ সুদান। কিন্তু বাংলাদেশ সে চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইং-এর এক কর্মকর্তা বাংলানিউজের কাছে এসব কথা জানান। তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশ থেকেই পাট নিতে চায়। এজন্য তাদের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। এখন থেকে পাট ও চটের নমুনা সংগ্রহ করে তারা দেখেছেন বাংলাদেশের পাট দিয়ে গাছের গায়ে আচ্ছাদন ও উপরে ছাউনি দিলে চারাগাছগুলো নিরাপদ থাকছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে চাহিদামতো পাট না পেয়ে দক্ষিণ সুদান অবশেষে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ভারত, পাকিস্তান ও চীন থেকে নিম্নমানের পাট আমদানি করছে। সুদান সরকারের তথ্যমতে, ২ লাখ বর্গ কিলোমটার এলাকা জুড়ে রয়েছে তাদের বনাঞ্চল। এ বিশাল বনাঞ্চল দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গাজুড়ে রয়েছে। তবে অধিকাংশই হলো সফটউড। যার রফতানিযোগ্যতা নেই। আর হার্ড-উড বা শাল, সেগুন বা মেহগনির মত কাঠের বাণিজ্যমূল্য অনেক। এ ধরনের মূল্যবান কাঠের বন খুব অল্প অঞ্চলজুড়ে রয়েছে দক্ষিণ সুদানে। এ বনের কাঠ চোরাচালান নিয়েও এ অঞ্চলে প্রায়শই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়ে থাকে। স্বাধীনতার আগে ২০০৭ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ প্রোগ্রাম ( ইএনইপি) এ জরিপে জানিয়েছে, দক্ষিণ সুদান যদি পরিকল্পিতভাবে গাছ রোপন করে তাহলে বছরে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) ডলার রাজস্ব পাবে শুধু কাঠ রপ্তানি করে। রফতানিযোগ্য কাঠের ক্ষেত্রে বিশ্বে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বনাঞ্চল রয়েছে খুব কম সংখ্যক দেশের। এদের মধ্যে ভারত,লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড অন্যতম। মিয়ানমার ছাড়া অন্য দেশগুলোর বনের গাছ কাটা নিষিদ্ধ। মিয়ানমার অবশ্য পরিকল্পিত বনায়নও করে থাকে। ইন্দোনেশিয়াও কাঠ রফতানি করে তাদের পরিকল্পিত বন থেকে। কিন্তু ২০১৪ সালের এপ্রিলে মিয়ানমারের কাঠ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় বিশ্ববাজারে দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এসব বিষয়কে মাথায় রেখেই দক্ষিণ সুদান হার্ডউড বা বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান গাছের চারা রোপনের মহাপরিকল্পনাটি হাতে নিয়েছে। আর সেজন্যই যে চারাগাছ লাগানো হবে সেগুলোকে বাঁচাতেই সুদান সরকার বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট সোনালি আঁশ পাবার জন্য মরিয়া।কিন্তু সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ।

Comments

Popular posts from this blog

কোট, প্যান্ট, টাই পরলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন :  কোট, প্যান্ট, টাই পরলে কি গুনাহ হবে? উত্তর :  কোট, প্যান্ট, টাই এগুলো পরলে গুনাহ হবে মর্মে কোনো হাদিস, কোনো  দলিল, কোনো রেওয়ায়েত বা ফতোয়া কোথাও কিছু আসেনি। তবে পোশাকের সুনির্দিষ্ট যে কোড রয়েছে, তার মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে এই, মানুষ যে পোশাকগুলো পরবে, তার মধ্যে যেগুলো সতরের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো একটু ঢিলেঢালা হবে, যাতে করে এমন টাইট ফিটিং না হয় যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখা যায়। এটা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকার মতো। যদি এমনটিই হয়, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন। হাদিসের মধ্যে বলেছেন যে, তারা পোশাক পরিহিত হবে, কিন্তু তারা উলঙ্গ। এ জন্য পোশাকের যে ইসলামিক কোড রয়েছে, সেই কোড লঙ্ঘন করলে আপনার সতরও ঢাকা হবে না, পোশাক পরাও হবে না। এই পোশাক পরলে গুনাহের কাজ হবে। কিন্তু কেউ যদি প্যান্ট পরেন, আর সেই প্যান্ট যদি ঢিলেঢালা হয়, স্বাভাবিকভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখা না যায়, তাহলে এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অনুরূপভাবে টাইও এক ধরনের পোশাক। এটি হারাম কোনো পোশাক নয় যে নিষিদ্ধ হবে। কোনো অঞ্চলে এটা সৌন্দর্যের জন্য বা শীতের জন্য পরা হতে পারে। পোশাকের দুটি দিক রয়েছে। আল্লাহতা...

ফরেইনারদের ব্যাপারে হোম আফেয়ার্স থেকে আদেশ

ফরেইনারদের ব্যাপারে হোম আফেয়ার্স থেকে আদেশ জারী হয়েছে। দোকানে দোকানে তল্লাশী হবে। কাগজ ছাড়া পেলেই ধরে ফেলবে। কারো দোকান, অফিস আদালতে কাগজ ছাড়া লোক পেলে কোনো অজুহাত শোনা হবেনা, দোকানদারকে বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে গ্রেফতার করা হবে।

দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকায় অ‌ভিবা‌সী বি‌রোধী সমা‌বেশ

নুৃরুল আলম, দক্ষিণ আফ্রিকা: দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকায় অ‌ভিবাসী বি‌রোধী সমা‌বে‌শের ডাক দি‌য়ে‌ছে প্রি‌টো‌রিয়ার ‘মা‌মে‌লো‌ডি স‌চেতন নাগ‌রিক’। অ‌বৈধ অ‌ভিবাসী‌দের দেশ‌ থে‌কে বের ক‌রে দেয়ার দা‌বি‌তে আগা‌মি ২৪ ফেব্রুয়া‌রি শুক্রবার এ সমা‌বে‌শের ডাক দি‌য়ে‌ছে সংগঠন‌টি। স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় সি‌টি হ‌লে সমা‌বেশ‌টি হ‌বে। সমাবেশে স্থানীয় আফ্রিকানদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গত  একমাস ধরে তারা লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। ওই লিফলেটে বলা হয়েছে, এই সমাবেশ হচ্ছে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এবং ওই সকল কোম্পানী ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যারা জিম্বাবুয়েসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের চাকরীর ব্যবস্থা করেছে। যেখানে চাকরী করার কথা ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকানদের। ওই লিফলেটে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন ক্যাশ এন্ড ক্যারি,  নানদোস, কেএফসি, স্পার, শপরাইটসহ বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে জিম্বাবুয়েসহ  (পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া) বিভিন্ন দেশের নাগরিক। স্থানীয়রা মনে করে, বিদেশী নাগরিকরা তাদের চাকরী কেড়ে নিয়েছে। ফলে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে,  নাইজেরিয়া, জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তানসহ আরো বিভিন্...